বিনোদন প্রতিবেদক:
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে আবারও আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর সার্টিফিকেশন বোর্ডের সার্টিফিকেট প্রদান প্রক্রিয়া। প্রযোজক ও পরিচালকদের অভিযোগ, বোর্ডের কার্যক্রমে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে এবং সার্টিফিকেট প্রদানের ক্ষেত্রে ‘দুই ধরনের নীতি’ অনুসরণ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, কোনো কোনো চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে সার্টিফিকেট পেতে ২১ দিন থেকে দেড় মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অথচ অন্য কিছু চলচ্চিত্র একই দিনে বোর্ডে জমা, প্রদর্শন এবং বিকেলের মধ্যেই সার্টিফিকেট পাওয়ার নজির তৈরি করছে। এই বৈষম্যমূলক আচরণে চলচ্চিত্র অঙ্গনে অসন্তোষ বাড়ছে।
প্রযোজক-পরিচালকদের অভিযোগ, অনেক সময় চলচ্চিত্র প্রদর্শনের পর বোর্ডের পক্ষ থেকে কাগজপত্র যাচাইয়ের কথা বলে দীর্ঘ সময় ধরে সার্টিফিকেট আটকে রাখা হয়। তাদের মতে, বোর্ডের চেয়ারম্যানের খামখেয়ালীপনার কারণেই সার্টিফিকেট পেতে দেরি হচ্ছে। উল্লেখ্য, ভাইস চেয়ারম্যান যথাসময়ে কাগজপত্র প্রদান করার পরও চেয়ারম্যানের সচিবালয়ের মাধ্যমে ফাইল চলাচল করা হয়, যা অনেক ক্ষেত্রেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের মতে এটি সম্পূর্ণ আইনের বহির্ভূত।
চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, এই অনিয়ম ও বৈষম্যের পেছনে বোর্ডের চেয়ারম্যানের অবহেলাই দায়ী। তাদের দাবি, সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকা সত্ত্বেও তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না হওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—কোন নীতিমালার ভিত্তিতে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে সার্টিফিকেট প্রদান করা হচ্ছে? যদি কোনো চলচ্চিত্র একদিনেই সার্টিফিকেট পেতে পারে, তাহলে অন্যদের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ কী?
প্রযোজক ও পরিচালকদের মতে, সার্টিফিকেট পেতে বিলম্ব হলে চলচ্চিত্রের প্রচারণা ও মুক্তির প্রস্তুতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। বিশেষ করে ঈদুল ফিতরের মতো বড় উৎসবকে কেন্দ্র করে মুক্তির পরিকল্পনা থাকলে সময়মতো সার্টিফিকেট না পাওয়ায় তারা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েন। সম্প্রতি আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মুক্তির অপেক্ষায় থাকা কয়েকটি চলচ্চিত্র সকালে বোর্ডে প্রদর্শনের পর বিকেলেই সার্টিফিকেট পেয়েছে—এমন ঘটনাও চলচ্চিত্র অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
এদিকে ‘পিনিক’ চলচ্চিত্রটির সার্টিফিকেট পেতে ২০ দিনের বেশি সময় লেগেছে বলেও জানা গেছে। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের জোর দাবি, সার্টিফিকেট প্রদানের ক্ষেত্রে সবার জন্য সমান নীতি, নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় এই ধরনের অভিযোগ ও অসন্তোষ আরও বাড়বে, যা দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।




